নিউ ইয়র্কের আদালতে ‘সম্পূর্ণ নির্দোষ’ দাবি বাংলাদেশি আকায়েদের



নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন পোর্ট অথোরিটি বাস টার্মিনালে ‘বোমা বিস্ফোরণ ও হামলার চেষ্টা’র অভিযোগে  পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি অভিবাসী আকায়েদ উল্লাহ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকালে ম্যানহাটনের ফেডারেল

আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারকের সামনে নিজেকে নির্দোষ উল্লেখ করেন আকায়েদ।
বৃহস্পতিবার কারাগারের নীল পোশাকে আদালতে হাজির হন আকায়েদ। দোষ স্বীকার করতে বলা হলে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বলছি আমি নির্দোষ।’ তার আইনজীবী বারবারই অভিযোগ করছেন, যে তিনি পর্যাপ্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তবে আদালত এখনও তাকে বাইরের চিকিৎসার অনুমতি দেয়নি।
১১ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে ব্যস্ত এলাকা পোর্ট অথোরিটি বাস টার্মিনালে বোমা বিস্ফোরণ ও হামলার চেষ্টা করেন আকায়েদ। ওই হামলায় আকায়েদসহ চারজন আহত হয়েছিলেন। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
আগের দিন বুধবার সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে আকায়েদ উল্লাহর বিরুদ্ধে ৬ দফা অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এতে বলা হয়েছে  স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, বোমা বিস্ফোরণের মূল উদ্দেশ্য ছিল তার। যত বেশি সম্ভব ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো এবং এর মাধ্যমে নিউ ইয়র্কের জনমনে আইসিসের (ইসলামিক স্টেট) আতঙ্ক ছড়ানো। অভিযোগ পড়ে শোনান ভারপ্রাপ্ত সহকারী এটর্নি জেনারেল বনেটে। অভিযোগপত্রে আকায়েদ উল্লাহর বিরুদ্ধে ৬ দফা অভিযোগ আনা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে, ইসলামিক স্টেটকে সহায়তা, জনবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার, লোকালয়ে বোমা বিস্ফোরণ, বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে জনগণের বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা, গণপরিবহনে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা এবং সহিংসতাকালীন বিধ্বংসী ডিভাইস ব্যবহার- এর অভিযোগ। অভিযোগের শুনানিতে বৃহস্পতিবার আদালতে এক আইনজীবীর মুখোমুখি হবার কথা তার। বর্তমানে  আকায়েদ উল্লাহ লোয়ার ম্যানহ্যাটনের মেট্রোপলিটান সংশোধনাগারে রয়েছে।                         
শুনানির প্রথম দিনে আকায়েদের বক্তব্য শোনা হয়। এরপর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফোন রেকর্ড শোনা ও ছবি দেখা হয়। তার ল্যাপটপের তথ্যও আদালতে হাজির করা হয়।

সরকারি আইনজীবী জানান, আকায়েদ উল্লাহ নিউ ইয়র্কের কেন্দ্রস্থলে পাইপবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংক ছড়াতে চেয়েছিলেন। ‘আমেরিকার মাটিতে আইএসের সহিংসতা’ আনতে চেয়েছিলেন আকায়েদ।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাস সংশ্লিষ্ট মামলা সবসময়েই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। আকায়েদ উল্লাহর বিষয়টিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নজরে এসেছে। তিনি বারবারই পারিবারিক অভিবাসন (চেইন মাইগ্রেশন) বিরোধিতা করে আসছেন। ছয় বছর আগে বাংলাদেশে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান আকায়েদ উল্লাহ। চাচার মাধ্যমে ভিসা পান তিনি। আর চাচা ডিভি লটারি জিতে মার্কিন নাগরিকত্ব পান।
ফেডারেল গোয়েন্দারা দাবি করেন, ২০১৪ সালে আকায়েদ আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে শুরু করেন। আইএস থেকে ভিডিও বার্তায় জানানো হয়, যেসব সমর্থকরা দেশ পাড়ি দিয়ে আইএস যোগ দিতে পারছেন না তারা যেন নিজ দেশেই হামলা চালায়। এই ভিডিওতে অনুপ্রাণিত হয়ে আকায়েদ ইন্টারনেটে খুঁজতে শুরু করেন কীভাবে বোমা তৈরি করা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, আকায়েদ তাদের কাছে স্বীকার করেছেন মার্কিন সরকারের মধ্যপ্রাচ্য নীতির কারণেই তিনি হামলা চালান। তার উদ্দেশ্য ছিল আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। এজন্যই কর্মদিবসে হামলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
হামলার দিন সকালে আকায়েদ ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘ট্রাম্প, তুমি তোমার জাতিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ।’ আরেকটি বিবৃতিতে তিনি বলেন, তিনি আইএসের নামেই হামলা চালাচ্ছেন। আকায়েদের বাড়ি থেকে অনেকগুলো পাইপ, ক্রিসমাস ট্রি লাইট ও স্ক্রু পাওয়া গেছে। অনেকগুলো হাতে লেখা নোট ছিল। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমেরিকা নিজের আগুনেই মরবে তুমি।’ ২৭ বছর বয়সী এই তরুণের বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সন্দীপের মুছাপুর গ্রামে। তার ডাক নাম সপু।বাবার নাম ছানাউল্ল্যা। আকায়েদের জন্ম ঢাকাতে।সে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় থাকতো।
২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা-মায়ের সঙ্গে সে যুক্তরাষ্ট্রে যায়। পরে স্থায়ী মার্কিন নাগরিক হিসেবে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে বসবাস করতে শুরু করে। তারা দুই ভাই এক বোন।
গত বছরের ১০ জুন সন্তানের জনক হন আকায়েদ। সন্তান হওয়ার খবর পেয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর দেশে এসেছিলেন তিনি। প্রায় এক মাস অবস্থানের পর ২২ অক্টোবর সে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। এর আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে আকায়েদ দেশে এসে বিয়ে করেন।