ট্রাম্পের ‘স্বপ্নদর্শী প্রকল্প’ বন্ধের উদ্যোগ আটকে দিল আদালত



নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রে মা-বাবার সঙ্গে অবৈধভাবে যাওয়া শিশুদের দেশে ফেরত পাঠানোর ট্রাম্প প্রশাসনের একটি চেষ্টা আটকে দিয়েছেন আদালত। ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা) নামে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেওয়া প্রকল্পটি গত সেপ্টেম্বরে বাতিলের ঘোষণা দেন

ট্রাম্প। এই প্রকল্পের আওতায় সুরক্ষা পাচ্ছে আট লাখ মানুষ। শুধু তাই নয়, তাদের লেখাপড়া ও কাজের সুযোগও দেওয়া হয় ‘ড্রিমার্স’ বা ‘স্বপ্নদর্শী’ নামে অধিক পরিচিত এই প্রকল্পে।
এদিকে অভিবাসন নিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণে গত মঙ্গলবার কংগ্রেসের দুই কক্ষের দুই দলের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তাঁর কণ্ঠস্বর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা নমনীয় শোনালেও মেক্সিকোতে দেয়াল নির্মাণের বিরোধিতা করে ডেমোক্র্যাটদের দাবিতে কোনো ছাড় দেননি তিনি।
সান ফ্রান্সিসকোর একটি আদালতের বিচারক উইলিয়াম আলসুপ গত মঙ্গলবার বলেন, ‘এই মামলা চলার সময়ে ড্রিমার্স প্রকল্পটি অবশ্যই বহাল রাখতে হবে। সারা দেশে পূর্ণ শর্ত ও সুবিধা নিয়েই এটা বহাল থাকবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ত্রুটিপূর্ণ আইনের দোহাই দিয়ে বিচার বিভাগ এই প্রকল্পকে অবৈধ বলে দাবি করে।’ এই ডিস্ট্রিক্ট জজ সরকারের প্রতি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এসংক্রান্ত আবেদনপত্রগুলো পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।
তবে এই রায়ের ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গত মার্চে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও আগামী মার্চ পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দিনে অন্তত এক হাজার নথিহীন অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
এদিকে সমন্বিত অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে ট্রাম্প কংগ্রেসের দুই দলের নেতাদের সঙ্গে গত মঙ্গলবার বৈঠক করেন। এসংক্রান্ত একটি বিল আগামী মার্চের মধ্যেই তাদের চূড়ান্ত করার কথা। এদিন ট্রাম্প তাঁর আগের অবস্থান থেকে বের হয়ে বেশ নমনীয় সুরে কথা বলেন। ড্রিমার্স প্রকল্প সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘এই বিলটি হবে ভালোবাসার।’ অভিবাসীবিষয়ক প্রস্তাবের ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, ‘এই বিলে আমাদের সীমান্তের নিশ্চয়তাও নিশ্চিত করতে হবে। সীমান্তপথে রেকর্ড পরিমাণ মাদক আসছে। সঙ্গে অবৈধ লোকজনও আসছে।’ তিনি বলেন, ‘সমন্বিত অভিবাসন সংস্কার থেকে আপনারা খুব বেশি দূরে নেই।’ ট্রাম্পের এমন অবস্থান একেবারেই নতুন। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকে শুরু করে অতিসাম্প্রতিক ভাষণ পর্যন্ত বারবার অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে একটি দেয়াল নির্মাণের ইচ্ছাও আছে তাঁর। যদিও এ দেয়ালের অর্থায়নের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।